বাংলাদেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যৌন ও লিঙ্গ বৈচিত্র্যময় শিক্ষার্থীদের নিপীড়ন: সাক্ষ্য সংগ্রহ ও দৃশ্য-শ্রাব্য নথিভুক্তকরণ
প্রেক্ষাপট ও উদ্দেশ্য: বাংলাদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় ও উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সমকামী, উভকামী, রূপান্তরকামী, আন্তঃলিঙ্গ এবং অন্যান্য যৌন ও লিঙ্গ বৈচিত্র্যময় শিক্ষার্থীরা তাদের যৌন অভিমুখিতা, লিঙ্গ পরিচয় বা লিঙ্গ প্রকাশের কারণে বৈষম্য, হয়রানি, হুমকি, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘন, আবাসন থেকে বহিষ্কার, শাস্তিমূলক ব্যবস্থা এবং সামাজিক নিপীড়নের শিকার হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। বিশেষভাবে দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় এবং ঢাকার সরকারি ইউনানি ও আয়ুর্বেদিক মেডিকেল কলেজ-সহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যৌন ও লিঙ্গ বৈচিত্র্যময় শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা, মর্যাদা ও অধিকার নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।
এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য হলো নিপীড়ন ও বৈষম্যের শিকার যৌন ও লিঙ্গ বৈচিত্র্যময় শিক্ষার্থীদের বাস্তব অভিজ্ঞতা নিরাপদ, গোপনীয় ও দায়িত্বশীল পদ্ধতিতে নথিভুক্ত করা এবং তাদের নিজেদের কণ্ঠে শিক্ষা, নিরাপত্তা, মর্যাদা, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও বৈষম্যহীনতার অধিকারের বিষয়টি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরা।
কী ধরনের সাক্ষ্য সংগ্রহ করা হবে
এই কার্যক্রমের আওতায় ৩ থেকে ৬ জন যৌন ও লিঙ্গ বৈচিত্র্যময় শিক্ষার্থী অথবা সাম্প্রতিক সাবেক শিক্ষার্থীর লিখিত সাক্ষ্য সংগ্রহ করা হবে। প্রতিটি সাক্ষ্য সাধারণত দুই থেকে কয়েকটি সংক্ষিপ্ত অনুচ্ছেদের হবে। এতে বৈষম্য বা নিপীড়নের ঘটনা, শিক্ষাজীবন ও ব্যক্তিগত জীবনে এর প্রভাব এবং সাক্ষ্যদাতা কী ধরনের পরিবর্তন প্রত্যাশা করেন—এসব বিষয় তুলে ধরা হবে।
পাশাপাশি সম্মত সাক্ষ্যদাতাদের কাছ থেকে সর্বোচ্চ ৩ মিনিটের খাড়া বিন্যাসের দৃশ্য-শ্রাব্য সাক্ষ্য ধারণ করা হবে। সাধারণ মুঠোফোন ব্যবহার করেই এটি ধারণ করা যাবে; পেশাদার ধারণ বা সম্পাদনার প্রয়োজন নেই। দৃশ্য-শ্রাব্য সাক্ষ্যের জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনামূলক প্রশ্ন আলাদাভাবে প্রদান করা হবে।
সাক্ষ্য সংগ্রহের ধাপসমূহ
১. সাক্ষ্যদাতা চিহ্নিতকরণ: সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমন যৌন ও লিঙ্গ বৈচিত্র্যময় শিক্ষার্থী বা সাম্প্রতিক সাবেক শিক্ষার্থীদের চিহ্নিত করা হবে, যারা যৌন অভিমুখিতা, লিঙ্গ পরিচয় বা লিঙ্গ প্রকাশের কারণে বৈষম্য, হয়রানি, হুমকি, বহিষ্কার, শাস্তি বা অন্য কোনো নিপীড়নের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা বহন করেন।
২. নিরাপদ প্রাথমিক যোগাযোগ: সম্ভাব্য সাক্ষ্যদাতার সঙ্গে ব্যক্তিগত ও নিরাপদ মাধ্যমে যোগাযোগ করতে হবে। প্রথম যোগাযোগেই কার্যক্রমের উদ্দেশ্য, সাক্ষ্যের সম্ভাব্য ব্যবহার এবং অংশগ্রহণ সম্পূর্ণ স্বেচ্ছাসেবী—এসব বিষয় পরিষ্কারভাবে জানাতে হবে।
৩. অবহিত সম্মতি গ্রহণ: সাক্ষাৎকার ও দৃশ্য-শ্রাব্য সাক্ষ্য ধারণের আগে সাক্ষ্যদাতার স্পষ্ট ও অবহিত সম্মতি নিতে হবে। লিখিত সাক্ষ্য প্রদান, নাম বা পরিচয় প্রকাশ, ছবি বা দৃশ্য-শ্রাব্য ধারণ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাধারণ বা অর্থের বিনিময়ে প্রচারে ব্যবহারের জন্য পৃথকভাবে সম্মতি নিশ্চিত করতে হবে। একটি বিষয়ে সম্মতি প্রদান অন্য সব বিষয়ে সম্মতি হিসেবে গণ্য হবে না।
৪. নিরাপত্তা ও ঝুঁকি মূল্যায়ন: পরিচয় প্রকাশের কারণে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সহপাঠী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বা অন্য কারও কাছ থেকে হুমকি, বৈষম্য বা প্রতিশোধের ঝুঁকি রয়েছে কি না তা বিবেচনা করতে হবে। প্রয়োজন হলে ছদ্মনাম ব্যবহার এবং মুখ, কণ্ঠস্বর, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নাম বা অন্যান্য শনাক্তকারী তথ্য গোপন রাখতে হবে।
৫. সাক্ষাৎকার ও তথ্য সংগ্রহ: নিরাপদ পরিবেশে ঘটনার সময় ও স্থান, কী ঘটেছিল, কারা জড়িত ছিল, সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কী ভূমিকা পালন করেছে, ঘটনার শিক্ষাগত, পারিবারিক, সামাজিক ও ব্যক্তিগত প্রভাব এবং সাক্ষ্যদাতা কী পরিবর্তন প্রত্যাশা করেন—এসব বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হবে। কোনো অপ্রয়োজনীয় বা সংবেদনশীল তথ্য প্রদানের জন্য কাউকে চাপ দেওয়া যাবে না।
৬. লিখিত সাক্ষ্য প্রস্তুত ও যাচাই: সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে দুই থেকে কয়েকটি অনুচ্ছেদের সংক্ষিপ্ত লিখিত সাক্ষ্য প্রস্তুত করা হবে। প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট সাক্ষ্যদাতাকে খসড়াটি দেখিয়ে তথ্যের যথার্থতা, ভাষা এবং কোন তথ্য প্রকাশ করা যাবে তা নিশ্চিত করতে হবে। সাক্ষ্যদাতার অনুমতি ছাড়া তার বক্তব্যের মূল অর্থ পরিবর্তন করা যাবে না।
৭. দৃশ্য-শ্রাব্য সাক্ষ্য ধারণ: সম্মত সাক্ষ্যদাতার সর্বোচ্চ ৩ মিনিটের খাড়া বিন্যাসের দৃশ্য-শ্রাব্য সাক্ষ্য ধারণ করা হবে। ধারণের আগে প্রকাশ ও প্রচারের বিষয়ে সাক্ষ্যদাতার সম্মতি পুনরায় নিশ্চিত করতে হবে। নিরাপত্তার প্রয়োজনে প্রকৃত নাম, মুখ, কণ্ঠস্বর বা শনাক্তকারী স্থান প্রকাশ না করেও সাক্ষ্য ধারণ করা যেতে পারে।
৮. চূড়ান্ত নিরাপত্তা যাচাই ও জমা: জমা দেওয়ার আগে প্রতিটি লিখিত ও দৃশ্য-শ্রাব্য সাক্ষ্য পুনরায় পরীক্ষা করতে হবে, যাতে অনিচ্ছাকৃতভাবে মুঠোফোন নম্বর, বাসার ঠিকানা, শিক্ষার্থী পরিচয়পত্র, ব্যক্তিগত নথি বা অন্য কোনো ঝুঁকিপূর্ণ শনাক্তকারী তথ্য প্রকাশ না হয়। সাক্ষ্যদাতার চূড়ান্ত অনুমোদনের পর উপকরণ নিরাপদ পদ্ধতিতে দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তির কাছে জমা দিতে হবে।
তথ্য সংগ্রহকারীর দায়িত্ব, ব্যয় ও সম্মানী
নির্ধারিত তথ্য সংগ্রহকারী সম্ভাব্য সাক্ষ্যদাতা চিহ্নিতকরণ, নিরাপদ যোগাযোগ ও সমন্বয়, সাক্ষাৎকার গ্রহণ, তথ্য যাচাই, লিখিত সাক্ষ্য প্রস্তুত এবং প্রয়োজনীয় দৃশ্য-শ্রাব্য সাক্ষ্য ধারণের দায়িত্ব পালন করবেন।
মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম সম্পাদনের জন্য প্রয়োজন অনুযায়ী যাতায়াত, থাকা ও খাবারের যুক্তিসঙ্গত ব্যয় বহন করা হবে। পাশাপাশি তথ্য সংগ্রহ, সাক্ষাৎকার গ্রহণ, সমন্বয়, লিখিত সাক্ষ্য প্রস্তুত এবং দৃশ্য-শ্রাব্য ধারণে ব্যয়িত সময় ও শ্রমের জন্য তথ্য সংগ্রহকারীকে নির্ধারিত সম্মানী প্রদান করা হবে।
সময়সীমা
সাক্ষ্যদাতা চিহ্নিতকরণ, নিরাপদ যোগাযোগ, সাক্ষাৎকার গ্রহণ, ৩ থেকে ৬টি লিখিত সাক্ষ্য সংগ্রহ, প্রয়োজনীয় দৃশ্য-শ্রাব্য সাক্ষ্য ধারণ, সম্মতি গ্রহণ এবং চূড়ান্ত নিরাপত্তা যাচাইসহ সম্পূর্ণ কার্যক্রম ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর মধ্যে শেষ করে জমা দিতে হবে।
সংগৃহীত সাক্ষ্যের ব্যবহার
সাক্ষ্যদাতার সুস্পষ্ট সম্মতির সীমার মধ্যে সংগৃহীত লিখিত ও দৃশ্য-শ্রাব্য সাক্ষ্য যৌন ও লিঙ্গ বৈচিত্র্যময় শিক্ষার্থীদের অধিকারবিষয়ক আন্তর্জাতিক প্রচারাভিযানে ব্যবহার করা হতে পারে। এর মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাধারণ প্রচার, অর্থের বিনিময়ে প্রচার, হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে প্রচার এবং অংশীদার সংগঠনের সঙ্গে যৌথ প্রচার অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।
এর মূল লক্ষ্য বাংলাদেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যৌন ও লিঙ্গ বৈচিত্র্যময় শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে সংঘটিত বৈষম্য ও নিপীড়নের বাস্তব অভিজ্ঞতা তুলে ধরা, ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের কণ্ঠস্বর সামনে আনা এবং তাদের জন্য নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বৈষম্যহীন শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবিতে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জনসচেতনতা ও সমর্থন বৃদ্ধি করা।
নিরাপত্তা, গোপনীয়তা ও স্বেচ্ছাসম্মতি
সাক্ষ্যদাতার নিরাপত্তা, মর্যাদা, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও স্বাধীন সিদ্ধান্ত এই কার্যক্রমের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। অংশগ্রহণ সম্পূর্ণ স্বেচ্ছাসেবী। কাউকে সাক্ষ্য প্রদান, দৃশ্য-শ্রাব্য সাক্ষ্যে অংশগ্রহণ অথবা নিজের যৌন অভিমুখিতা বা লিঙ্গ পরিচয় প্রকাশের জন্য কোনো ধরনের চাপ প্রয়োগ করা যাবে না।
আমাদের সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়টিও কঠোরভাবে গোপন রাখা হবে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পূর্বানুমতি ছাড়া তার নাম, যৌন অভিমুখিতা বা লিঙ্গ পরিচয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচয়, যোগাযোগের তথ্য, সাক্ষ্য বা অন্য কোনো ব্যক্তিগত ও শনাক্তকারী তথ্য তৃতীয় পক্ষের কাছে প্রকাশ করা হবে না।
পরিচয় প্রকাশে নিরাপত্তাঝুঁকি থাকলে ছদ্মনাম ব্যবহার, পরিচয় গোপন, মুখ বা কণ্ঠস্বর প্রকাশ না করা এবং শনাক্তকারী তথ্য বাদ দেওয়ার ব্যবস্থা থাকবে। ব্যক্তির নিরাপত্তা ও মর্যাদা সব ধরনের প্রচারমূলক প্রয়োজনের চেয়ে অগ্রাধিকার পাবে।
যোগাযোগ করুন
এই কার্যক্রমে অংশগ্রহণ, সাক্ষ্য প্রদান, তথ্য সংগ্রহ অথবা বিস্তারিত জানার জন্য নিরাপদ ও গোপনীয়ভাবে যোগাযোগ করুন:
অ্যাডভোকেট শাহানূর ইসলাম
সভাপতি
জাস্টিসমেকার্স বাংলাদেশ ইন ফ্রান্স (জেএমবিএফ)
ই-মেইল: info@jmbf.org
হোয়াটসঅ্যাপ/সিগন্যাল: +33 7 83 95 23 15
আপনার যোগাযোগ, পরিচয়, সাক্ষ্য ও ব্যক্তিগত তথ্য সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ও গোপনীয়তার সঙ্গে সংরক্ষণ ও পরিচালনা করা হবে।
***************************************************
JusticeMakers Bangladesh in France (JMBF) is an independent, non-profit, non-partisan international human rights organization registered in France under the French Association Law of 1901 (Registration No. W931027714), committed to defending human rights, promoting social justice, and empowering communities in Bangladesh and beyond. JMBF is officially registered in the European Union Transparency Register (REG No. 0635235105176-78).
